
পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয়তাবাদের চেতনা
একটি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ছাত্র-ছাত্রীদের মননের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করার যে প্রস্তাব বা আলোচনা সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ।
কেন এই সিদ্ধান্তটি অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল?
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আবেগ: ‘বন্দে মাতরম’ কেবল একটি সাধারণ গান বা স্লোগান নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল মন্ত্র ছিল। এই একটি ধ্বনি কোটি কোটি ভারতীয়কে একসূত্রে বেঁধেছিল। বাংলার মাটি থেকেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে এই গানের সৃষ্টি। তাই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি স্কুলে এই গান গাওয়া আমাদের নিজেদের গৌরবময় ইতিহাসকে সম্মান জানানোর শামিল।
- মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের বিকাশ: শৈশব এবং কৈশোর হলো মানুষের চরিত্র গঠনের সঠিক সময়। প্রতিদিন বিদ্যালয় স্তরে এই গানটি গাওয়ার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মনে নিজেদের দেশ, সংস্কৃতি এবং বীর শহীদদের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জন্ম হবে।
- শৃঙ্খলা ও একতা: জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে যখন সমস্ত শিক্ষার্থী একসাথে দাঁড়িয়ে দেশের বন্দনা করবে, তখন তাদের মধ্যে একটি অভিন্ন ভারতীয় সত্তা ও একতার ভাব গড়ে উঠবে। এটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
উপসংহার: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করার এই প্রয়াস নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সাথে যুক্ত রাখবে এবং তাদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা দেবে।
