
স্থানীয় পুরসভা কর্তৃপক্ষ রবিবার শহরের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিস প্রদান করেছে। নোটিসে তাঁর বাড়ির নির্মাণ/পুনর্নির্মাণ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ স্থাপত্য ও সিভিল প্ল্যান দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে — নথি না দিলে প্রযোজ্য বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুরসভার অডিট ও নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে গত কয়েক মাসে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অননুমোদিত নির্মাণ ও প্ল্যানের অনুপস্থিতি নিয়ে নজরদারি শুরু করে। সূত্র জানায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন কিছু সম্প্রসারণ বা অনলাইন তালিকায় থাকা নকশা ও বাস্তব অবস্থার মধ্যে বিচ্যুতি দেখা গেছে। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত অভিযোগ ও স্থল পরিদর্শনের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ নোটিস জারি করেছে এবং সম্পূর্ণ নকশাসহ অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়েছে।
নোটিসের মূল দাবি:
সম্পূর্ণ স্থাপত্য (architectural) ও সিভিল প্ল্যান বছরের নির্দিষ্ট ফর্ম্যাটে জমা দিতে হবে।
জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে (নোটিসে উল্লিখিত — সাধারণত 7–15 কার্যদিবস)।
জমা না হলে বা অপ্রতুল নথি পেলে পুরসভা সংশ্লিষ্ট বিল্ডিং অ্যাক্ট ও প্ল্যানিং নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অতিরিক্ত কোন অব কাঠামো থাকলে তা তৎক্ষণাৎ সরিয়ে ফেলতে বলা হতে পারে বা জরিমানা করা হতে পারে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া:
নোটিসটি হাতে পাওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় দলের অফিসে এসে বলেন, “আমি নিয়ম-মাফিকই কাজ করেছি। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্ল্যানের কাগজপত্র আমরা জমা দেব। কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা তৈরি করতে চায়, সেটি আমি বুঝতে পারি।” তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করার আশ্বাস দিয়েছেন।
পৌর কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা:
পুরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) বলেন, “এটি সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী যে কোনো নতুন নির্মাণ বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্ল্যান জমা করা বাধ্যতামূলক। কোনো নাম বা ব্যক্তিত্বের কারণে আলাদা আচরণ করা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “নোটিস জারি করা হয়েছে যাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পরিপূর্ণতা যাচাই করা যায় এবং শহরের সুষ্ঠু পরিকল্পনা রক্ষা করা সম্ভব হয়।”
স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সম্প্রসারণ হলে পার্কিং, রাস্তা ও নালায় প্রভাব পড়তে পারে; তাই পুরসভার তৎপরতা স্বাগত।
অন্যদিকে বিরোধী দল থেকে দাবি উঠেছে, তাৎপর্যপূর্ণ কোন রাজনৈতিক ব্যস্ততা আছে কি না— এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।
কিছু সামাজিক মিডিয়া মন্তব্য নোটিসকে রাজনৈতিক হিংসার অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে; কিছু মন্তব্য বলেছেন যে আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।
পরবর্তী করণীয়:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল প্ল্যান ও অনুমোদনকাগজ জমা দিতে হবে।
পুরসভা দাখিলকৃত নথি যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে নোটিস তুলে নেওয়া বা বাতিল করা হতে পারে।
নথি অসম্পূর্ণ বা অননুমোদিত নির্মাণ ধরা পড়লে নির্মাণ কাজ স্থগিত, জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
পরিস্থিতি নজরে রেখে স্থানীয় প্রশাসন আরো পরিদর্শন বাড়াতে পারে।
