
দেশজুড়ে ফের বৃদ্ধি পেয়েছে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচে আরও চাপ পড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির মধ্যেই গ্যাসের বাড়তি খরচ সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি সিলিন্ডার এখন ৩২৫৫ টাকা হয়েছে। তবে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে; ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এখনও ৯৩৯ টাকা
বিশেষ করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ পরিবার প্রতিদিনের রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের উপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সরাসরি পারিবারিক বাজেটে প্রভাব ফেলছে। অনেক পরিবার এখন গ্যাসের ব্যবহার কমানোর উপায় খুঁজছেন, আবার কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানির কথাও ভাবতে শুরু করেছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র খরচ বাঁচানোর জন্য অবৈধ বা নিম্নমানের সিলিন্ডার ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। তাই সবসময় অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস ব্যবহারের সময় যেসব সতর্কতা অবশ্যই মানবেন
✔️ রান্না শেষ হলে গ্যাসের রেগুলেটর ও নব বন্ধ করুন।
✔️ রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন এবং জানালা খোলা রাখার চেষ্টা করুন।
✔️ নিয়মিত গ্যাস পাইপ, রেগুলেটর ও সংযোগস্থল পরীক্ষা করুন।
✔️ পাইপে ফাটল, ক্ষয় বা লিকেজ দেখা গেলে দ্রুত পরিবর্তন করুন।
✔️ গ্যাসের গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক সুইচ, ম্যাচ বা লাইটার ব্যবহার করবেন না।
✔️ গ্যাস লিক হলে দরজা-জানালা খুলে দিন এবং দ্রুত গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
✔️ শিশুদের নাগালের বাইরে সিলিন্ডার ও গ্যাস সংযোগ রাখুন।
✔️ সবসময় সিলিন্ডার সোজা অবস্থায় সংরক্ষণ করুন।
অবৈধ সিলিন্ডার ব্যবহারে বাড়ছে ঝুঁকি
প্রশাসনের দাবি, বাজারে অনেক সময় কম দামে অবৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রির চেষ্টা করা হয়। এগুলি ব্যবহার করলে বিস্ফোরণ বা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত এজেন্সি বা ডিলারের কাছ থেকেই গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সচেতনতাই নিরাপত্তার চাবিকাঠি
অগ্নি নির্বাপক বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই মূল্যবৃদ্ধির সময় সাশ্রয়ের কথা ভাবলেও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা উচিত নয়।
“সুরক্ষাই সাশ্রয়, সচেতনতাই সমাধান” — এই বার্তাই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলুন, সতর্ক থাকুন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন।
