
খাবারে ভেজাল, মিশছে নিষিদ্ধ রংও। জেলায় জেলায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল খাবার চিহ্নিত করছেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। পাড়ার যে দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনছেন বা রেস্তরাঁ থেকে আনাচ্ছেন, তাতে নিষিদ্ধ রং মেশানো আছে কি না, বুঝবেন কী উপায়ে?
হুগলির নানা জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন রাস্তার দোকান থেকে ভেজাল খাবার, নিষিদ্ধ রং মেশানো বিরিয়ানি, চপ-কাটলেট, এমনকি তেলরং মেশানো মিষ্টি বাজেয়াপ্ত করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। রাস্তার ধারের দোকানগুলি কেবল নয়, অনেক বড়সড় রেস্তরাঁতেও কী পরিমাণে ভেজাল খাবার বিক্রি হচ্ছে, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ারই জোগাড়। জেলায় জেলায় খাবারে ভেজাল ধরতে অভিযানও চলছে। খাদ্য সুরক্ষা দফতর জানিয়েছে, বিরিয়ানি আরও বেশি আকর্ষণীয় দেখাতে তাতে কলকারখানার নিষিদ্ধ রং মেশানো হচ্ছে। এই রং মানুষের শরীরের জন্য বিপজ্জনক। তাই উজ্জ্বল লালচে-হলুদ রঙের বিরিয়ানি দেখে যতই লোভ হোক না কেন, তাতে বিষাক্ত রং মেশানো আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া খুব প্রয়োজন।
ক্রেতাদের চোখ টানতে বিরিয়ানিতে মেশানো হচ্ছে ‘মেটানিল ইয়োলো’ কিংবা ‘কঙ্গো রেড’ নামের রং। এই ধরনের রং সাধারণত কারখানাগুলিতে কাপড় বা কাঠ রং করতে ব্যবহার করা হয়। সেই রংই মিশছে বিরিয়ানিতে। মেটানিল ইয়েলো বা কঙ্গো রেড মিশলে বিরিয়ানির ভাত, আলু ও মাংসের রং আরও উজ্জ্বল দেখাবে। লালচে-হলুদ রং ধরবে, যা দেখতে লোভনীয়। খাদ্য সুরক্ষা দফতর জানিয়েছে, এই সব রঙের প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে সেগুলি মানুষের জন্য বিপজ্জনক। কিন্তু তার পরেও অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে বিরিয়ানি বিক্রি করার জন্য এমন রংই মিশিয়ে দিচ্ছেন। এই রং দিনের পর দিন রক্তে মিশলে হার্ট, লিভার ও কিডনি বিকল হতে থাকবে। ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়বে।
রং মেশানো বিরিয়ানি চিনবেন কী উপায়ে?
কৃত্রিম রং মেশানো বিরিয়ানি উজ্জ্বল লাল বা হলুদ রঙের হবে। সাধারণ মশলা বা হলুদগুঁড়ো অথবা লঙ্কাগুঁড়ো খাবারে মিশলে তেমন উজ্জ্বল রং হয় না।
বিরিয়ানির ভাতের রং গাঢ় হবে। প্রতিটি ভাতের রংই উজ্জ্বল হলুদ বা লালচে হবে। সাধারণ মশলা মিশলে রঙে সামঞ্জস্য থাকে না। ভাত সাধারণত সাদা-হলদেটে থাকে। রং মিশলেই তা গাঢ় লালচে বা খুব উজ্জ্বল হলদেটে রঙের হবে।
একটি গ্লাসে জল নিয়ে তাতে রং মেশানো বিরিয়ানি দিলে জলের রং সঙ্গে সঙ্গে লাল বা হলুদ হয়ে যেতে পারে। কৃত্রিম রং জলে দ্রুত মিশে যায়। সাধারণ কেশর বা হলুদের রং জলের সঙ্গে ধীরে ধীরে মেশে।
কিছু পরিমাণ বিরিয়ানি নিয়ে হাতের তালুতে আলতো করে ঘষুন। যদি হাতে উজ্জ্বল কোনও রং লেগে থাকে, তা হলে বুঝতে হবে, তাতে কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে। সেই রঙের ঘনত্বও বেশি হবে।
কৃত্রিম রঙের কারণে বিরিয়ানির স্বাদে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। উগ্র গন্ধ বার হতে পারে, যা কেশর বা গরমমশলার গন্ধের চেয়ে আলাদা। খাওয়ার সময়ে স্বাদ বা গন্ধ অন্যরকম মনে হলে সাবধান হতে হবে।
অতিরিক্ত কম দামে বিক্রি হলে ও বিরিয়ানির চাল খুব বেশি চকচকে দেখালে সতর্ক হতে হবে। বুঝতে হবে সেই বিরিয়ানিতে নিষিদ্ধ রং মেশানো হয়েছে।
