
হড়পা বানের বিধ্বংসী তাণ্ডবেও মাটি আঁকড়ে দাঁড়িয়ে সবুজ রঙের বাড়ি। বন্যার জল বার বার আঘাত হানছে ইমারতটিতে। আশ্চর্য ক্ষমতাবলে টিকে গিয়েছে সেই ‘অলৌকিক’ বাড়ি। সমাজমাধ্যমে বহু ভিডিয়োয় ধরা পড়েছে সেই অস্বাভাবিক দৃশ্য। ভিডিয়োটি দেখার পর বহু নেটাগরিকই বাড়িটি সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক। কী এমন ‘শক্তি’ রয়েছে বাড়িটিতে, যে কারণে সমস্ত আঘাত সামলে টিকে রইল?
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ত্রিশূলী নদীর উত্তাল বন্যার জল আশপাশের ভবন, যানবাহন ও জিনিসপত্র ভাসিয়ে নিয়ে গেলেও সবুজ বাড়িটি অনেকাংশেই অক্ষত। তা দেখে অনেকেই কৌতূহল প্রকাশ করেছেন বাড়িটির বয়স নিয়ে বাড়িটির অক্ষত থাকাকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। চারপাশের অন্যান্য বাড়িঘর ও কাঠামো ভেসে গেলেও কী ভাবে এই বাড়িটি টিকে রইল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। বাড়িটির মালিক প্রকাশ সংবাদমাধ্যমে জানান, বাড়িটির টিকে থাকার নেপথ্যে কয়েক দশক আগে ব্যবহৃত বিশেষ নির্মাণশৈলীই দায়ী। মজবুত কাঠামো ও পরিকল্পিত নির্মাণই সম্ভবত প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও বাড়িটিকে অক্ষত থাকতে সাহায্য করেছে। তিনি জানান, বাড়িটি প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। তখনকার সিমেন্ট ও নির্মাণ সামগ্রীর মান আরও ভাল ছিল। নদীর কাছাকাছি হওয়ায় বাড়িটির ভিত তৈরির সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার কথা ভেবে এর নীচে দুই-তিন স্তর রাস্তা তৈরির উপকরণও দেওয়া হয়েছে। ফলে বাড়ির ভিত বেশ মজবুত রয়েছে বলে জানান বাড়ির মালিক।
ভয়াবহ মুহূর্তটির সময় বাড়িটিতে মোট ছ’জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের তিন জনকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল ভাইরাল ভিডিয়োটিতে। পরিবারটি প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা আটকে ছিল সেখানে। পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। তবে ভবনটির নীচের অংশটি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রচুর জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। বাইক ও স্কুটার-সহ একাধিক গাড়ি ভেসে গিয়েছে বলেও জানান প্রকাশ।
