
জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যজুড়ে ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে একীভূত জরুরি পরিষেবা (Emergency Response Support System – ERSS)। এই ব্যবস্থায় মাত্র একটি নম্বর—১১২-তে ফোন করলেই পুলিশ, দমকল কিংবা অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা যাবে। সরকারের দাবি, কল পাওয়ার পর গড়ে পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে এই পরিষেবা চালু করা হচ্ছে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজোর আগেই গোটা রাজ্যে ১১২ পরিষেবাকে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় কন্ট্রোল রুম, জিপিএস-সংযুক্ত পেট্রোলিং গাড়ি, আধুনিক কল সেন্টার এবং ডিজিটাল কমান্ড সিস্টেম তৈরির কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। এর ফলে জরুরি ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী পুলিশ টিমের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে এবং দ্রুত রওনা হবে রেসপন্স ইউনিট।
কীভাবে কাজ করবে ১১২ হেল্পলাইন?
১১২ নম্বরে ফোন করলেই কলটি সরাসরি ইমার্জেন্সি রেসপন্স কন্ট্রোল রুমে পৌঁছাবে। প্রশিক্ষিত অপারেটর কল গ্রহণ করে সমস্যার ধরন বুঝে সংশ্লিষ্ট বিভাগে তথ্য পাঠাবেন। যদি পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হয়, তবে নিকটবর্তী থানার পেট্রোলিং ভ্যান বা কুইক রেসপন্স টিমকে সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো হবে। একই নম্বরের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা মহিলাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগও জানানো যাবে।
২৪ ঘণ্টা পরিষেবা, সর্বক্ষণ নজরদারি
এই পরিষেবা ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন চালু থাকবে। দিন বা রাত—যে কোনও সময় বিপদের মুখে পড়লে সাধারণ মানুষ ১১২ নম্বরে ফোন করতে পারবেন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে কল ট্র্যাকিং, লোকেশন শনাক্তকরণ এবং দ্রুত রেসপন্স নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এতে অপরাধ দমন ও দুর্ঘটনাজনিত উদ্ধারকাজ আরও দ্রুত হবে।
নারী নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব
১১২ পরিষেবার সঙ্গে রাজ্যের প্রতিটি থানায় চালু হয়েছে মহিলা হেল্পডেস্ক এবং গঠন করা হয়েছে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, গার্হস্থ্য হিংসা, স্টকিং বা অন্য কোনও বিপদের ক্ষেত্রে দ্রুত মহিলা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
কল সেন্টারে থাকবেন প্রশিক্ষিত কর্মী
জরুরি কল গ্রহণের জন্য অত্যাধুনিক কল সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। প্রশিক্ষিত কর্মীরা অভিযোগ শুনে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য দপ্তর বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। একই সঙ্গে প্রতিটি ঘটনার ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করা হবে, যাতে তদন্ত ও পরিষেবার মান আরও উন্নত করা যায়।
সরকারের বক্তব্য
সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই নতুন উদ্যোগ। রাজ্যের প্রতিটি নাগরিক যাতে একটি নম্বর মনে রেখেই সব ধরনের জরুরি পরিষেবা পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই ১১২ পরিষেবাকে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, দ্রুত পুলিশি সাড়া, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমন্বিত জরুরি পরিষেবার মাধ্যমে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
