
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নিজের পুরোনো দুর্গ নন্দীগ্রাম ধরে রাখার পাশাপাশি, তৃণমূলের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি এবং হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও তিনি ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে এনেছেন। কিন্তু এই জোড়া জয়ের পরেই তাঁর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে এক নতুন আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন।
নিয়মের বাধ্যবাধকতা
সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী একসাথে দুটি বিধানসভা আসনে জয়ী হলে তাঁকে একটি আসন থেকে পদত্যাগ করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তিনি ভবানীপুর রাখবেন, নাকি নন্দীগ্রাম।
কোন আসনের রাজনৈতিক গুরুত্ব কতটা?
নন্দীগ্রাম (আবেগের দুর্গ): এই কেন্দ্রটি শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থান ও সম্মানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ২০২১ সালের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের পর ২০২৬ সালেও তিনি এখান থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এই আসনটির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, যা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া মানসিকভাবে বেশ কঠিন।
ভবানীপুর (মর্যাদার নতুন প্রতীক): ভবানীপুরে ১৫,০০০-এর বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করা রাজ্য রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এই কেন্দ্রটি নিজের কাছে রাখার অর্থ হলো খাস কলকাতাতে পদ্ম শিবিরের শক্তিশালী অবস্থান এবং আধিপত্য বজায় রাখা।
কী ভাবছে রাজনৈতিক মহল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর করবে না, এর পেছনে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘমেয়াদী রণনীতিও বড় ভূমিকা পালন করবে। ভবানীপুর আসন ছেড়ে দিলে সেখানে পুনরায় উপনির্বাচন হবে, যা বিরোধী শিবিরের কাছে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের সুযোগ হতে পারে। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম ছাড়লে তা তাঁর পুরোনো এবং একনিষ্ঠ অনুগামীদের মধ্যে কী বার্তা দেবে, সেটাও ভাববার বিষয়।
এখন গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর আগামী ১০ দিনের দিকে। শুভেন্দু অধিকারী শেষ পর্যন্ত তাঁর পুরোনো দুর্গ নন্দীগ্রাম বেছে নেবেন, নাকি ভবানীপুরের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসনটি নিজের কাছে রেখে বিধানসভায় নতুন সমীকরণ তৈরি করবেন— উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।
