
পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ কারখানা ও অনিয়মিত শিল্প ইউনিটের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি এক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি ভাবে চলা বহু কারখানায় বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, অবৈধ কারখানাগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রয়োজনে বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। বিশেষ করে কসবা, তিলজলা, টপসিয়া সহ সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলগুলির নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ তোলেন, সেখানে বহু বেআইনি নির্মাণ ও কারখানা গড়ে উঠেছে প্রশাসনের নীরবতায়।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবেশ দূষণ, অগ্নি-নিরাপত্তাহীনতা এবং শ্রমিক সুরক্ষার অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। তিনি বলেন, “আর নয় অব্যবস্থা, এবার হবে কঠোর ব্যবস্থা।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজ্যে শিল্প নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে চাপ বাড়াতে চাইছে বিরোধী শিবির। যদিও শাসকদল এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
এদিকে এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য, অবৈধ কারখানার কারণে বহু সময় দুর্ঘটনা, আগুন লাগা ও দূষণের সমস্যা তৈরি হয়। ফলে প্রশাসনের তরফে বাস্তবিক অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান শুভেন্দু অধিকারীর, প্রশাসনকে দিলেন কঠোর নির্দেশের বার্তা
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি ভাবে গড়ে ওঠা কারখানা, গুদাম ও শিল্প ইউনিট নিয়ে ফের সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার এক জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, বহু এলাকায় প্রশাসনের চোখের সামনেই অবৈধ কারখানা বছরের পর বছর ধরে চলছে। শুধু তাই নয়, এই সমস্ত কারখানায় বিদ্যুৎ ও জল সংযোগও বেআইনি ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যে সমস্ত কারখানার বৈধ নথি নেই, পরিবেশ ছাড়পত্র নেই কিংবা অগ্নি-নিরাপত্তার অনুমোদন নেই, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রয়োজনে এই সব কারখানার বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ কেটে দেওয়া হোক।
কোন কোন এলাকার নাম উঠে এল?
ভাষণের সময় কসবা, তিলজলা, টপসিয়া, মেটিয়াবুরুজ, পার্ক সার্কাস, রাজাবাজার সহ কলকাতা ও সংলগ্ন একাধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার নাম উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এই এলাকাগুলিতে আবাসিক অঞ্চলের মধ্যেই বহু অবৈধ কারখানা চলছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অগ্নিকাণ্ড ও দূষণ নিয়ে উদ্বেগ
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, বেশিরভাগ অবৈধ কারখানায় নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য দুর্ঘটনাও বড় অগ্নিকাণ্ডের রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি রাসায়নিক বর্জ্য, ধোঁয়া ও শব্দদূষণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “বেআইনি কারখানার কারণে বহু নিরীহ শ্রমিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। দুর্ঘটনা ঘটলে মালিকেরা দায় এড়িয়ে যান, অথচ প্রাণ হারান সাধারণ মানুষ।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তোলেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির কারণেই বহু অবৈধ কারখানা বছরের পর বছর ধরে টিকে রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসন ও পুরসভার নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বড় সংখ্যায় বেআইনি শিল্প ইউনিট গড়ে উঠল?
তাঁর দাবি, অবিলম্বে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সমস্ত অবৈধ কারখানার তালিকা তৈরি করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। শাসকদলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, বিরোধীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই বিষয় সামনে আনা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, বহু এলাকায় রাতভর কারখানা চলার কারণে শব্দদূষণ, ধোঁয়া ও যানজটের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি আগুন লাগার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকেন বাসিন্দারা। ফলে প্রশাসনের তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেতে পারেন বলেই মত তাঁদের।
