
প্রশাসনিক সংস্কার
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর রাজ্যের সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলির পরিচালন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং স্কুল প্রশাসনের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই নতুন পদক্ষেপ।
মূল পরিবর্তনসমূহ:
পুরনো পদের বিলুপ্তি: স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির ‘প্রেসিডেন্ট’ (SMC President) এবং PIE (Persona Interested in Education) বা শিক্ষানুরাগী সদস্যের পদটি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা হলো।
নতুন দায়িত্ব: স্বাভাবিক স্কুল প্রশাসন ও দৈনন্দিন কাজকর্ম সচল রাখার জন্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর অবিলম্বে ডিআই-কে (DI – District Inspector) নিয়মনীতি মেনে DDO (Drawing and Disbursing Officer) নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব ও উদ্দেশ্য:
”শিক্ষার উন্নতি, প্রশাসনের গতি” — এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
১. প্রশাসনিক গতিশীলতা: অনেক সময় ম্যানেজিং কমিটির অভ্যন্তরীণ জটিলতা বা প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির কারণে স্কুলের অনেক জরুরি সিদ্ধান্ত আটকে থাকে। DDO নিয়োগের ফলে প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হবে।
২. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: সরাসরি সরকারি আধিকারিক বা মনোনীত DDO-র তত্ত্বাবধানে স্কুলের আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হলে ব্যবস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
৩. অনুকূল পরিবেশ: স্কুলের স্বাভাবিক পঠন-পাঠন এবং পর্ষদের নিয়মকানুন বজায় রেখে স্কুলকে রাজনৈতিক বা স্থানীয় চাপ থেকে মুক্ত রেখে একক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে চালানো সহজ হবে।
উপসংহার:
শিক্ষা দপ্তরের এই নয়া নির্দেশিকা রাজ্যের বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষা প্রশাসনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। আশা করা যাচ্ছে, এই সংস্কারের ফলে স্কুল স্তরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেকটাই কমবে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
