
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে আবার আশার আলো দেখছে ১০০ দিনের কাজ। কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শুধুমাত্র ২ জেলায় এখন কাজ শুরু হবে না। মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনাতে এখনই এই কাজ শুরু হচ্ছে না। বাকি যাদের কেওয়াইসি লিঙ্ক হয়ে গিয়েছে, তাঁরা যাতে দ্রুত কাজ পান, তার জন্য উদ্যোগী হচ্ছে সরকার। ৬৫ শতাংশের ক্ষেত্রে এই লিংক হয়ে গিয়েছে। ১০০ দিনের কাজ পুনরায় শুরুর উদ্দেশে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর ইতিমধ্যেই জেলা স্তরে বৈঠক সেরে ফেলেছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, ১০০ দিনের কাজ যার আগে নাম ছিল মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট (MGNREGA), পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকার তার নাম বদলে করে করেছে বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ), সংক্ষেপে VB-G RAM G। এখন এই ১০০ দিনের কাজে বেশ কিছু নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। যেমন, যারা এই ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কাজ করছেন, সেইসব শ্রমিকরাই যাতে পারিশ্রমিকের টাকা পান, তা নিশ্চিত করতে ‘আধার লিঙ্কড পেমেন্ট সিস্টেম’ (ALPS)-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, পেমেন্ট পদ্ধতিতে আরও স্বচ্ছতা আনা হচ্ছে। লক্ষ্য, যাতে প্রকৃত শ্রমিকরাই টাকা পান। এর পাশাপাশি জিও-ট্যাগিং ব্যবস্থার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। কী সেটা? কাজের জায়গার ছবি ও কর্মরত শ্রমিকদের ছবি সরাসরি ডিজিটাল পোর্টালে আপলোড করা হবে। যাতে কে কোন প্রকল্পে কাজ করছেন, তা সরাসরি পোর্টালে নথিবদ্ধ থাকে। ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজের টাকা নিয়ে দুর্নীতি রুখতে যা বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১ জুন থেকে জনতার দরবার
১০০ দিনের কাজের পাশাপাশি শুভেন্দু সরকারের আরও একটি বড় নজিরবিহীর ঘোষণা হল ‘জনতার দরবার’। তৃণমূল সরকার রাজ্যে শুরু করেছিল ‘দুয়ারে সরকার’, এবার বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকার শুরু করতে চলেছে ‘জনতার দরবার’। ১ জুন থেকেই রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। কী হবে এই ‘জনতার দরবারে’?
‘জনতার দরবারে’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে ও প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্তারা উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ, দাবি-দাওয়া সরাসরি তাঁদের মুখ থেকে শুনবেন। সেইসব অভিযোগ, সমস্যা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করবেন। যার মূল লক্ষ্য একটাই, প্রশাসনিক কাজে গতি আনা। প্রাথমিকভাবে স্থির হয়েছে যে, সপ্তাহে নির্দিষ্ট একদিন বা দুদিন এই ‘জনতার দরবার’ হবে।
যেখানে রাস্তাঘাট থেকে পানীয় জল, বার্ধক্য ভাতা থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং স্থানীয় স্তরে কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকলে, সেইসব কিছু নিয়েই মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশেও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীদের ‘জনতার দরবার’। ওড়িশায় রয়েছে ‘জন শুনানি।’ এবার বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার।’
