
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের নামে চাঞ্চল্যকর ঘটনা উঠে এসেছে গত কয়েকদিনে। পুলিশের তাড়া খেয়ে “ফিল্মি কায়দায়” বেপাত্তা হওয়া এই বিধায়কের বাড়িতে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও নাম জড়িয়ে উঠেছে বিতর্কিত ঘটনায়।
পুলিশের তাড়ায় “সিনেমার কায়দায়” পালানো বিধায়ক
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানে অবস্থিত তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বাগানবাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। সূত্রের খবর, পুলিশ ঢোকার আগেই তিনি বাগানবাড়ির জানালা টপকে পালান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পাজামা–পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় খালি পায়ে দ্রুত এলাকা ছাড়ছেন তিনি—এমন দৃশ্য অনেককেই মনে করিয়েছে সিনেমার stunt–এর কথা।
শুধু পালানোই নয়, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে পরে পোশাকও বদলে দেন বলে সূত্রের খবর। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিধায়কের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের হুমকি ও উত্তেজনামূলক ভাষণের অভিযোগ তুলে কয়েকটি জামিনযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, এর প্রেক্ষিতেই পৈলানের বাড়িতে তল্লাশি ও দুর্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিধায়কের চলচ্চিত্রী পালানোর পেছনের কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে তৃণমূলের এক জনসভায় বিজেপি কর্মীদের প্রতি উসকানিমূলক ও হুমকিমূলক কথা বলেন দিলীপ মণ্ডল। সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েন তিনি। তার প্রতিক্রিয়ায় বিধায়কের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” এবং বিজেপির চাপে পুলিশ এভাবে অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশ ও বিজেপি এজন্য বিধায়ককে জবাবদিহি তলবের দাবি জানিয়েছে। �
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে শোনা যায়, বিধায়কের বাড়ি নাকি বিলাসবহুল প্রাসাদোপম কাঠামো, সেখানে সুইমিং পুল, বাগান থেকে শুরু করে বড় গেট–সব মিলিয়ে এলাকার এক চোখের অস্থিরতা ছিল। এই বাড়িটিই এখন রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিধায়কের সন্তান–সংক্রান্ত ঘটনা: অস্ত্র ও গ্রেফতার
তৃণমূল নেতাদের পরিবারের কক্ষপথে অস্ত্র ও গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে বহু বার খবর ওঠানামা হয়েছে। এর আগেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল নেতার ছেলে, শ্যালক বা অন্যান্য সন্তানদের বিরুদ্ধে সোনা পাচার, দুর্নীতি এবং হাতিয়ার নিয়ে অভিযোগ ওঠে, এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে গ্রেফতারও হয়েছে।
যদিও দিলীপ মণ্ডলের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পুলিশি সূত্রে স্পষ্ট না যে তাঁর নিজের ছেলেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে তৃণমূল বিধায়কের সন্তানদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র বা অস্ত্রোপকরণ নিয়ে ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বারবার সামনে এসেছে। এসব ঘটনাকে ঘিরে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে যে, ক্ষমতাশীন দলের নেতাদের সন্তানেরা অস্ত্র ও অপরাধের দিকে ঝুঁকছে, যার প্রতি পুলিশ ও প্রশাসনের দৃষ্টি কখনও কখনও কম থাকে।
রাজনৈতিক ও আইনি প্রতিক্রিয়া
দিলীপ মণ্ডলের বিষয়টি শুধু আইন–আইনি ঘটনা নয়, রাজনৈতিক বিষয়েও পরিণত হয়েছে। বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধীরা দাবি তোলেন, ভোটে জয়ের পর “বিজয় মিছিল”–এর নামে ভাষণ দিয়ে বিপক্ষকে হুমকি দেওয়া ঠিক নয় এবং এ ধরনের আচরণের জন্য শীর্ষ তৃণমূল নেতৃত্বও দায়ী। অন্যদিকে তৃণমূল পক্ষ থেকে এটিকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত কারসাজি” আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
হিসাব–নিকাশে বাড়ির খরচ, হুমকির ভিডিও থেকে শুরু করে পুলিশের তাড়ায় পালানো—সব মিলিয়ে দিলীপ মণ্ডলের গল্প এখন রাজ্যের একটি রাজনৈতিক–আইনি ক্যাসেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন মতামত উঠে আসছে; অনেকে তাঁর “চলচ্চিত্রী পালানোর” কথা মনে করে উপহাস করছেন, অনেকে আবার পুলিশের হাতে বিধায়কের এই দুর্ভাবনা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
