
সোমবার রাজ্য প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছিল নবান্নে। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন এবং সূত্রের খবর, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সিএমও-কে চিঠি পাঠিয়ে নিজের অনুপস্থিতির কথা জানান।
এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিতি, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে বারবার চর্চা হয়েছে।
তৃণমূলের একাংশের মতে, অসুস্থতার কারণে বৈঠকে যোগ দিতে না পারা স্বাভাবিক ঘটনা এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও সম্পর্ক খোঁজা উচিত নয়। তবে বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের দিকে তাকালে এই অনুপস্থিতিকে একেবারে সাধারণ ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ফলে তাঁর কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বৈঠকে অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দেয়। যদিও এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা কেমন এবং তিনি কবে আবার সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ফিরবেন।
তবে সরকারি বা দলীয়ভাবে যতক্ষণ না কোনও স্পষ্ট বক্তব্য সামনে আসছে, ততক্ষণ ‘শারীরিক অসুস্থতা’ নাকি ‘রাজনৈতিক বার্তা’— সেই প্রশ্নের উত্তর অধরাই থেকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
