
সূত্রের খবর, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে মোট আক্রান্ত ছিলেন ৭৭০ জন। ৩১ জুলাই তা বেড়ে হয় ১৯৪৬। ৩১ অগস্ট সংখ্যাটা দ্বিগুণ হয়ে ৩৯৬৬ হয়েছিল। ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই সংখ্যা সাড়ে চার হাজারের কিছুটা বেশি।
পুজোর মুখে পশ্চিমবঙ্গে ফের ডেঙ্গির সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজ্যের কয়েকটি জেলা এবং কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতর দ্বিতীয় দফায় সতর্কতা জারি করেছে। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার হাজারের কিছু বেশি। আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে মুর্শিদাবাদ এগিয়ে রয়েছে, এরপর কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা।
নতুন নির্দেশিকায় জ্বরের রোগীদের উপর বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে নিয়মিত আক্রান্তদের তথ্য স্বাস্থ্য ভবনে পাঠাতে বলা হয়েছে। গুরুতর ডেঙ্গি রোগীদের তথ্য প্রতিদিন অনলাইন পোর্টালে নথিভুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে ডেঙ্গি পর্যবেক্ষক দল তৈরি করা হবে। আক্রান্তের সংখ্যা বেশি এমন এলাকা ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে এই দল।
ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমা জল পরিষ্কার এবং নিয়মিত মশা-নিধন অভিযান চালানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে পর্যাপ্ত প্লেটলেট মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও রোগ-নির্ণয় কেন্দ্রগুলিকেও ডেঙ্গি পরীক্ষা এবং আক্রান্ত রোগীদের তথ্য নিয়মিত স্বাস্থ্য দফতরের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। বিশেষ নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জ্বরের রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে বাড়ি-বাড়ি নজরদারি চালানো হচ্ছে। ৪৮ ঘণ্টার বেশি জ্বর থাকলে সেই তথ্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা আধিকারিককে জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ডেঙ্গির ELISA পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজ্যজুড়ে সাম্প্রতিক পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গি প্রতিরোধ অভিযানে হাজার হাজার সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে পরিষ্কার করা হয়েছে। ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের অভিযানে ২৭,৩৭৮টি জায়গায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কাজ করা হয় এবং ৬,০৬৫টি জমে থাকা নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গির ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তাই জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা বা র্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বাড়ি ও আশপাশে কোথাও জল জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, ড্রাম, পরিত্যক্ত পাত্র ও ছাদে জমে থাকা জল নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং মশারি বা মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
