
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের আবহ তৈরি হয়েছে। নবান্নের পর এবার সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনের নিরাপত্তাও পুরোপুরি নিজেদের কবজায় নিল কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী (CAPF)। বুধবার সকাল থেকেই স্বাস্থ্য ভবনে যে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, তা রীতিমতো স্তম্ভিত করেছে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীদের। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর এবং চর্চিত বিষয় হলো, এই তল্লাশি থেকে ছাড় পাননি খোদ রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম।
ওয়েবসাইটের পাঠকদের জন্য পুরো ঘটনার একটি বিস্তারিত সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
১. নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও কড়া চেকিং
বুধবার সকাল থেকেই স্বাস্থ্য ভবনের মূল প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভেতরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা কড়া পাহারা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য ভবনে প্রবেশকারী এবং বের হওয়া প্রত্যেক কর্মী, আধিকারিক ও সাধারণ মানুষের ব্যাগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেক করা হচ্ছে।
ফাইলের হিসেব নিকেশ: কেউ কোনো ফাইল নিয়ে ঢুকলে বা বেরোলে, সেই ফাইলের নম্বর পর্যন্ত জওয়ানরা খাতায় লিখে রাখছেন।
বিশেষ নজরদারি ডেস্ক: পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য ভবনের ভেতরে একটি বিশেষ ডেস্ক তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে বাহিনীর নির্দেশমতো প্রতিটি ফাইলের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
২. স্বাস্থ্য সচিবের ব্যাগ তল্লাশি ও তীব্র চাঞ্চল্য
এদিনের ঘটনার সবথেকে বড় চমক ছিল খোদ স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের ব্যাগ তল্লাশি।
সকালে তিনি দপ্তরে প্রবেশের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁর পথ আটকান এবং নিয়ম মেনে তাঁর ব্যাগ পরীক্ষা করেন।
রাজ্যের এত উচ্চপদস্থ একজন আমলার ব্যাগ এভাবে চেক করার ঘটনা প্রশাসনিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য ভবনের অন্দরে যেমন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়, তেমনই একাংশের মধ্যে চাপা বিস্ময় তৈরি হয়।
৩. কেন এই আকস্মিক কড়াকড়ি?
প্রশাসনিক পালাবদল বা সরকার পরিবর্তনের আবহে অনেক সময়ই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সরিয়ে ফেলা বা নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। এই পদক্ষেপের মূল কারণগুলো হলো:
ফাইল লোপাটের আশঙ্কা: রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল যাতে কোনো দপ্তর থেকে কোনো ফাইল নষ্ট বা পাচার না হতে পারে।
দুর্নীতির নথি সরানোর অভিযোগ: সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ সম্প্রতি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন যে, স্বাস্থ্য ভবন থেকে ফাইল সরানোর কাজ চলছে এবং এই ফাইলে মূলত কোভিড (COVID-19) সময়কার দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে।
এই ধরনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি যাতে লোপাট না হয় এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে, মূলত সেই নির্দেশেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বাড়তি সতর্কতা ও কড়া পদক্ষেপ।
উপসংহার: নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য ভবন সহ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই কড়া নজরদারি বজায় থাকবে বলে জানা গেছে। আপাতত রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান কার্যালয় কার্যত এক নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত হয়েছে।
