
মে ২০২৬-এ রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত সরকার নবান্নে তাদের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক সম্পন্ন করেছে। এই বৈঠকের পর রাজ্যবাসীর মনে তৈরি হওয়া সবচেয়ে বড় শঙ্কার উত্তর মিলেছে— পূর্ববর্তী সরকারের আমলের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ আসলে কী?
বিশ্লেষণে উঠে আসা মূল বিষয়গুলি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. পুরনো কোনো প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না (সবচেয়ে বড় স্বস্তি):
রাজ্যবাসীর আতঙ্ক দূর করে নতুন প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসা কোনো সামাজিক প্রকল্পই হঠাৎ করে বন্ধ করা হবে না।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কন্যাশ্রী: মহিলাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করার এই জনপ্রিয় প্রকল্প এবং ছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য কন্যাশ্রী অনুদান আগের মতোই চালু থাকবে।
স্বাস্থ্যসাথী: স্বাস্থ্যসাথী কার্ডও আপাতত বাতিল হচ্ছে না, তবে নতুন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে একে কীভাবে যুক্ত বা আপডেট করা যায়, প্রশাসন তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
২. রাজ্যে কেন্দ্রীয় সুবিধা: ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার সিদ্ধান্ত:
নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কেন্দ্রীয় সরকারের বড় ও কার্যকরী প্রকল্পগুলোকে দ্রুত পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করা।
আয়ুষ্মান ভারত: এটি নতুন ক্যাবিনেটের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের সাধারণ মানুষ পরিবার পিছু বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উন্নত মানের স্বাস্থ্য বিমা পাবেন, যা দেশের যেকোনো বড় সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে।
পিএম কিষাণ ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা: কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছানো এবং আটকে থাকা আবাস যোজনার বাড়ির কাজ দ্রুত শুরু করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. সরকারি কর্মচারী এবং মহিলাদের জন্য নতুন সুখবর:
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কয়েকটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে:
সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission): রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি মেনে সপ্তম বেতন কমিশন বা পে কমিশন দ্রুত কার্যকর করার রূপরেখা নিয়ে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই জোরদার আলোচনা হয়েছে।
অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার: মহিলাদের আর্থিকভাবে আরও বেশি সাবলম্বী করতে নতুন ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ প্রকল্প কীভাবে ধাপে ধাপে চালু করা যায়, তা নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু করেছে সরকার।
৪. স্বচ্ছ প্রশাসন ও সরাসরি পরিষেবা (Direct Delivery):
মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই সমস্ত সরকারি সুবিধা যেন কোনো রাজনৈতিক মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।
ডিজিটাল ভেরিফিকেশন (KYC): ভুয়ো উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দিতে এবং প্রকৃত প্রাপকদের কাছে সরাসরি টাকা পৌঁছাতে ডিজিটাল কেওয়াইসি (KYC) এবং ভেরিফিকেশনের ওপর এবার সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
সারসংক্ষেপ:
নতুন সরকার মূলত একটি ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে চাইছে। তারা একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য পুরোনো প্রকল্পগুলো বহাল রাখছে, তেমনই অন্যদিকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো বড় মাপের কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে নিয়ে এসে সার্বিক উন্নয়নের গতি বাড়াতে চাইছে।
