
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এলাকায় এক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, এক জনসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচির সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ‘ভাইপো’-কে লক্ষ্য করে কাচা ডিম ছোড়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র চাপানউতোর।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ দাবি করেন, হঠাৎ করেই ভিড়ের মধ্যে থেকে ডিম ছোড়া হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও ঘটনায় কেউ গুরুতরভাবে আহত হননি বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর এক যুবক সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরছেন। তাঁর পাশে বসে থাকা এক মহিলা এবং স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, এলাকার বিভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল, আর সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ঘটনায়। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি পরিকল্পিতভাবে পরিবেশ অশান্ত করার জন্য এই ধরনের উসকানিমূলক কাজ করেছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু ডিম ছোড়া বা আক্রমণাত্মক আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিরোধী শিবির অবশ্য পাল্টা দাবি করেছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে শাসকদল। তাঁদের মতে, এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল এবং সেই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ঘটনার পর সোনারপুর এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনার পিছনে কারা জড়িত ছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সোনারপুরের এই ঘটনা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
