
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিধায়কদের কম উপস্থিতি নিয়ে। দলীয় সূত্রে দাবি, নির্ধারিত বৈঠকে প্রায় ৮০ জন বিধায়কের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হাজির ছিলেন মাত্র ২০ জন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
বৈঠকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পরের দিন কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে খবর। সেখানে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, বিধায়কদের ভূমিকা, বিভিন্ন জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিধায়কদের বড় অংশের অনুপস্থিতি দলীয় নেতৃত্বের কাছে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্বহীন বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। দলের একাংশের মতে, অনেক বিধায়ক পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি, প্রশাসনিক ব্যস্ততা অথবা ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
অন্যদিকে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, দলের মধ্যে অসন্তোষ ও মতপার্থক্য ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং জনমুখী কর্মসূচির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। একইসঙ্গে বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় আরও সক্রিয় থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই দলীয় নেতৃত্ব এখন সংগঠনকে আরও সুসংহত করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই কারণেই কালীঘাটের এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে নানা জল্পনা চললেও তৃণমূল নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। কালীঘাটের বৈঠকের পর দলীয় সংগঠনে কোনও বড় পরিবর্তন বা নতুন নির্দেশ আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
