
পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামোকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একাধিক বড় প্রকল্পের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। কলকাতায় প্রশাসনিক বৈঠক এবং বিভিন্ন প্রকল্প পর্যালোচনার পর তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি রেল প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হতে পারে। এর ফলে নতুন রেললাইন, আধুনিক স্টেশন, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস এবং দ্রুতগতির ট্রেন পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
রাজ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্প
রেলমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে চলমান ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির মোট মূল্য প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে নতুন রেললাইন নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ, মেট্রো সম্প্রসারণ এবং রেল নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্যোগ।
৫ বছরে ৬০টি নতুন প্রজন্মের ট্রেন
কলকাতা মেট্রো নেটওয়ার্কে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৬০টি নতুন প্রজন্মের ট্রেন যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। এর ফলে যাত্রী পরিষেবা আরও আধুনিক ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টায়?
ঘোষণার অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো ভবিষ্যতের দ্রুতগতির রেল করিডর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিল্লি থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ গড়ে তোলা হলে যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের রাজধানীর যোগাযোগে নতুন দিগন্ত খুলবে।
অমৃত ভারত প্রকল্পে আধুনিক হবে ১০২টি স্টেশন
পশ্চিমবঙ্গের ১০২টি রেলস্টেশনকে অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের আওতায় আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। স্টেশনগুলিতে উন্নত যাত্রী পরিষেবা, আধুনিক অপেক্ষাকক্ষ, উন্নত প্রবেশপথ, লিফট, এস্কেলেটর এবং ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করা হবে।
৫৩৮টি ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস
রেললাইন পারাপারে নিরাপত্তা বাড়াতে রাজ্যে ৫৩৮টি রেল ওভারব্রিজ এবং আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং সড়ক ও রেল চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে।
গোপীবল্লভপুর–নয়াগ্রাম রেল সংযোগের সম্ভাবনা
দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী জঙ্গলমহল অঞ্চলে নতুন রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গোপীবল্লভপুর–নয়াগ্রাম রেল সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুর ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্যও বাড়ছে
এই ঘোষণাগুলিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রেল প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এই প্রকল্পগুলির প্রভাব পড়তে পারে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
