
জোড়া মিছিল রুখতে ৫০০০ পুলিশ, র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তরে মন্তরমুখী সমস্ত রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। অশোক রোড এলাকাকেও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ-আন্দোলন অব্যাহত রইল রবিবারেও। এ দিন যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার কথা দু’টি মিছিলের। প্রথমটি নাগরিক মিছিল। বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা এই মিছিলে শামিল হবেন। বিকেল ৪টেয় এই মিছিল শুরু হওয়ার কথা। বিকেল ৫টায় প্রতিবাদ মিছিলেন ডাক দিয়েছে যুব কংগ্রেস। সেই মিছিলটিরও গন্তব্য দিল্লির যন্তর মন্তর।
জোড়া মিছিল রুখতে ৫০০০ পুলিশ, র্যাফ, আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তরে মন্তরমুখী সমস্ত রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ, কেরল ভবনের দিকে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। অশোক রোড এলাকাকেও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দু’টি কর্মসূচিরই কোনও অনুমতি নেই। তবুও দু’টি মিছিলেই বহু মানুষ যোগ দেবেন, এমনটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে পুলিশ।
নাগরিক মিছিলের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের পদত্যাগের পাশাপাশি মহিলাদের সুরক্ষার দাবিও জানাবেন তাঁরা। ছাত্র সংগঠন আইসা মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্থা করার অভিযোগ তুলে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রসঙ্গত, তিন মহিলা সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, শনিবার যন্তর মন্তরে খবর করতে গিয়ে তাঁরা যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন। আঙুল তুলেছেন দিল্লি পুলিশের দিকে। এই অভিযোগের সূত্র ধরে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই প্রসঙ্গে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস বলেন, “অভিযোগকারিণী এখানে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবীরাও রয়েছেন। তার পরেও কেন তারা (পুলিশ) আমাদের সঙ্গে কথা বলছে না?” দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরেই সবিস্তার তদন্তের জন্য বিষয়টি ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সিজেপি-র বিক্ষোভের মধ্যেই বেশ কয়েকজন সাংবাদিক পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে অবস্থানে বসেছেন। তাঁদের দাবি, মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থা করার জন্য দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। একই দাবিতে সরব হয়েছেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাটও। তিনি বলেন, “উনি একজন এসিপি। তিনি একজন মহিলার গায়ে হাত দিচ্ছেন! তিনি কি প্রোটোকল জানেন না? উনি কী করে এটা করার সাহস পেলেন? এখন পুলিশ এইআইআর নিতে চাইছে না
এই ঘটনাকে সামনে রেখে চাপ বা়ড়ানোর কৌশল নিয়েছে কংগ্রেসও। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বাড্রা সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “যে পুলিশের কাজ নিরাপত্তা জোগানো, সেই পুলিশের জন্য মহিলারা অসুরক্ষিত বোধ করছেন। কলেজপড়ুয়া থেকে সাংবাদিক— মহিলা সব জায়গায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নরেন্দ্র মোদীজি, অমিত শাহজি মহিলাদের সঙ্গে কি এই ধরনের আচরণ করতে হয়?”
