
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টারে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে— “হাওড়া স্টেশনে কোনও অবৈধ বাংলাদেশি ধরা পড়লেই কোর্ট নয়, সোজা সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্পে তুলে দেওয়া হবে।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে নতুন করে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, যাঁরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় পড়েন না এবং অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি নবান্নে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী “Detect, Delete and Deport” নীতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সীমান্ত সুরক্ষা এবং রাজ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, হাওড়া ও শিয়ালদহ-সহ গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হতে পারে। রেল পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএসএফ-এর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সীমান্তবর্তী একাধিক জেলায় বিশেষ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে বিরোধীদের একাংশ এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কটাক্ষ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির তরফেও প্রশ্ন উঠেছে, কোনও ব্যক্তিকে “অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া কতটা মানা হবে, তা নিয়ে। যদিও রাজ্য সরকারের দাবি, সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে।
