
সন্দীপ ঘোষের বাড়ির বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ: কলকাতা পুরসভার বড় পদক্ষেপ
আর জি কর কাণ্ডের জল এবার গড়াল সন্দীপ ঘোষের বাড়ির দেওয়ালে। কলকাতার বেলেঘাটায় অবস্থিত আর জি কর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিলাসবহুল বাড়ির একটি অংশ এবার ভাঙা পড়তে চলেছে। কলকাতা পুরসভা (KMC)-র তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওই বাড়ির একটি নির্দিষ্ট অংশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এবং আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সেই বেআইনি অংশটি ভেঙে ফেলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু ও পটভূমি:
- বেআইনি নির্মাণ: পুরসভার নিয়মানুযায়ী, যে কোনো বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্ল্যান বা নকশা পাস করাতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, সন্দীপ ঘোষের বেলেঘাটার বাড়ির একটি অংশে পুরসভার অনুমোদিত নকশা বা প্ল্যানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ কাজ করা হয়েছিল।
- কলকাতা পুরসভার নোটিশ: বিষয়টি সামনে আসার পর কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করেন এবং নিয়মের চরম লঙ্ঘন দেখতে পান। এরপরই পুরসভার পক্ষ থেকে একটি ডিমোলিশন নোটিশ বা ভাঙার নির্দেশ জারি করা হয়।
- ৪৫ দিনের সময়সীমা: নোটিশে পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই বেআইনি অংশটি সরিয়ে বা ভেঙে ফেলতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কাজ না করা হয়, তবে পুরসভা নিজেই বুলডোজার দিয়ে সেই বেআইনি অংশটি গুঁড়িয়ে দেবে এবং তার সমস্ত খরচ সন্দীপ ঘোষের পরিবার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বহন করতে হবে।
কেন এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ?
আইনি ও প্রশাসনিক চাপ: আর জি কর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI ও ED)-র নজরে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে জেল হেফাজতে আছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর পুরসভার এই কড়া পদক্ষেপ তাঁর আইনি ও সামাজিক অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল।
সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা এতদিন আইনকে ফাঁকি দিয়ে এসেছেন, এবার তাঁদের জবাবদিহি করার সময় এসেছে। প্রশাসন ও পুরসভার এই কড়া অবস্থানকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
