
ভাটপাড়া পুরসভায় বিরাট রাজনৈতিক বিস্ফোরণ: তৃণমূলের ৩০ জন কাউন্সিলরের গণইস্তফা!
উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ওলটপালট। এবার চরম সংকটের মুখে ভাটপাড়া পুরসভা (Bhatpara Municipality)। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও কোন্দল এবার এক ধাক্কায় প্রকাশ্যে চলে এল। পুরসভার মোট ৩৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে একযোগে ৩০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ‘গণইস্তফা’র ধাক্কায় পুরবোর্ড কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে।
মূল বিষয়বস্তু ও ঘটনাপ্রবাহ:
- গণইস্তফার ধাক্কা: ভাটপাড়া পুরসভায় তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৩০ জন একসঙ্গে তাঁদের ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ায় পুরসভার প্রশাসনিক কাজ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল বোর্ড: ৩৫ জনের মধ্যে ৩০ জনই পদত্যাগ করায় বর্তমান পুরবোর্ডটি কার্যত সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে। এর ফলে পুরপ্রধান (Chairman) বা বর্তমান বোর্ডের পক্ষে পুরসভা চালানো আইনি ও নৈতিকভাবে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- কোন্দল নাকি ক্ষোভ? রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গণইস্তফার নেপথ্যে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ তীব্র মতবিরোধ, টিকিট বণ্টন বা নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ এবং স্থানীয় স্তরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। দীর্ঘদিন ধরে চলা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ এই গণপদত্যাগ।
রাজ্য রাজনীতিতে এর প্রভাব কী হতে পারে?
প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা: এত বিপুল সংখ্যক কাউন্সিলর একসাথে ইস্তফা দেওয়ায় ভাটপাড়া পুরসভায় এখন এক চরম প্রশাসনিক সংকট তৈরি হলো। দলীয় স্তরে এই ড্যামেজ কন্ট্রোল করা না গেলে, পুরসভাটি সচল রাখতে রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে প্রশাসক (Administrator) বসাতে হতে পারে। এমনকি আগামী দিনে এখানে নতুন করে উপ-নির্বাচন বা পুরভোটের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতি বরাবরই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই পরিস্থিতিতে শাসক দলের অন্দরে এই বিরাট ফাটল আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে কী সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।
