
শুভেন্দু অভিনন্দন জানিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে। লক্ষাধিক ভোটে বিজেপি প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন ভোটারদেরও। শুভেন্দু অভিনন্দন জানিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে। লক্ষাধিক ভোটে বিজেপি প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন ভোটারদেরও। ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এখন তৃণমূলের ‘হার-বার মডেল’। ফলতার নির্বাচনে ফল একপ্রকার স্পষ্ট হতেই সমাজমাধ্যমে তৃণমূলকে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি নাম না নিলেও তাঁর কটাক্ষের নিশানায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারে তাঁর মুখেই শোনা যেত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর কথা। শুভেন্দুর আরও খোঁচা, আগামী দিনে তৃণমূলের লড়াই হবে ‘নোটা’-র বিরুদ্ধে। এর পরেই শুভেন্দু অভিনন্দন জানিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পান্ডাকে। লক্ষাধিক ভোটে বিজেপি প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন ভোটারদেরও। শুভেন্দু যখন সমাজমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন, তখনও ফলতা বিধানসভায় ভোটগণনা শেষ হয়নি। তবে বিজেপি প্রার্থী লক্ষাধিক ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে থাকা বামফ্রন্ট প্রার্থীর থেকে। শুভেন্দু সে কথাই উল্লেখ করেন নিজের পোস্টে। ফলতার মানুষকে ‘নতমস্তকে প্রণাম’ জানান তিনি। তার পরে লেখেন, ‘ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ। বিজেপির প্রার্থীকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম, জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পেরিয়েছে।’ তার পরেই শুভেন্দু ভোটের আগে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দেন। তিনি লেখেন, ‘উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ শোধ করব। সোনার ফলতা গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ।’
এর পরেই শুভেন্দু একের পর এক তোপ দাগেন পূর্বতন শাসকদল তৃণমূলকে। তিনি লেখেন, ‘একটি নীতি-আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুট, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল।’
নিজের পোস্টে শুভেন্দু এ বার নাম না করে কটাক্ষ করেন অভিষেককে। তিনি লিখেছেন, ‘প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত, এমন কোনও অপরাধ নেই, যা সংগঠিত করেনি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কোনও কসুর করেনি এই ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’।’ এখানেই থামেননি তিনি। আরও লেখেন, ‘ফলস্বরূপ, বিগত নির্বাচনকে (লোকসভা ভোট) পরিহাসে পরিণত করে এই বিধানসভা (ফলতা) ক্ষেত্রে দেড় লাখ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল।’ তাঁর মন্তব্যের লক্ষ্য যে এখানে অভিষেক, তা এক প্রকার স্পষ্ট। গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা থেকে প্রায় দেড় লক্ষ ভোটে এগিয়ে ছিলেন অভিষেক। তাঁর সেই জয়ের অন্যতম ‘কারিগর’ বলে পরিচিত, ‘ঘনিষ্ঠ’ জাহাঙ্গির খান ফলতায় ভোটের দু’দিন আগে সরে দাঁড়ান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রুজু হয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ ছিল, ফলতার নির্বাচনে কারচুপি করানোর চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। এ বার ফলতার ফলঘোষণার দিনে শুভেন্দু লেখেন, ‘১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখন আসল বাস্তব প্রকাশিত হল।’
