
কলকাতার রানী রাসমণি রোডে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ধরনা কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ধরনামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চলছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রতিবাদে তিনি দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ধরনাকে কটাক্ষ করে দাবি করেন, কর্মসূচিতে প্রত্যাশিত জনসমাগম হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “দেড়শো লোক আর সাংবাদিক দুশো, দলটা তো ফলতার মতো হয়ে গেছে।” শুভেন্দুর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী বর্তমানে দলের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন এবং বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ধরনামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক শক্তি, ভয় দেখানো এবং বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই তরজায়। একদিকে বিজেপি সরকার নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল রাস্তায় নেমে বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে জনসমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনা ও তার প্রতিক্রিয়াই অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
