
এশিয়া কাপ জেতার পরেও ট্রফি নেয়নি ভারতীয় দল। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই মাঠ ছা়ড়েন হরমনপ্রীত কৌরেরা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভির কাছ থেকে যে ভারতীয় দল ট্রফি নেবে না, তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
খেলা শেষে সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা জানিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচ অমল মুজুমদার। তিনি জানান, বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছিল, যদি নকভি মঞ্চে থাকেন, তা হলে ভারতীয় দল ট্রফি নেবে না।
সাংবাদিক বৈঠকে অমল বলেন, “বিসিসিআই এটাই নির্দেশ দিয়েছিল। আমরা তা মেনেছি। আমাদের কাছে এই প্রতিযোগিতা শেষ। আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। সেটাই আসল। মাঠের জায়ান্ট স্ক্রিনে বড় বড় করে লেখা আছে, ভারত ২০২৬ সালের এশিয়া কাপ জিতেছে। এবার সামনের দিকে তাকাব। এশিয়ান গেমসের কথা ভাবছি।” ভারত এশিয়া কাপ ট্রফি হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে কোনও খবর তাঁর কাছে নেই বলে জানিয়ে দেন অমল।
পাশাপাশি অমল আরও জানিয়েছেন, এশিয়ায় যে তাঁরাই সেরা সেটা বার বার দেখিয়ে দিচ্ছে দল। তিনি বলেন, “আমরা অপরাজিত থেকে দাপট দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফকে নিয়ে আমি গর্বিত। আমরাই এশিয়ায় সেরা। এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।”
এশিয়া কাপের ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া ও সহ-সভাপতি রাজীব শুক্ল। খেলা শেষে দেখা যায়, গ্যালারি থেকে মাঠে নেমেছেন তাঁরা। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মাঠেই সঞ্চালককে নিজেদের মনের কথা জানান হরমনপ্রীত, রিচা ঘোষেরা। খেলা শেষ হওয়ার আধ ঘণ্টা পরে দেখা যায়, মাঠে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফেরা।
সেখানেই ছিলেন শইকীয়া ও শুক্ল। তাঁরা ক্রিকেটারদের কিছু কথা বলেন। শোনা না গেলেও বোঝা যাচ্ছিল, সাফল্যের প্রশংসা করছেন। সেখানেই হয়তো তাঁরা জানিয়ে দেন যে, ভারতীয় দল ট্রফি নেবে না। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মেডেল প্রত্যেক ক্রিকেটারের হাতে তুলে দেন অমল। তার পর ম্যাচের সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার নন্দিনী শর্মার হাতে তুলে দেন শইকীয়া। সেখানেই উল্লাস করেন হরমনপ্রীতেরা। ৩৫ মিনিট মাঠে থেকে মাঠ ছেড়ে সাজঘরে চলে যায় ভারতীয় দল। পুরস্কার বিতরণ মঞ্চের কাছেই যাননি ক্রিকেটারেরা।
খেলা শেষ হওয়ার ৪৫ মিনিট পর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। মঞ্চে ছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভি। তিনিও জানতেন, ভারত তাঁর হাত থেকে পুরস্কার নিতে আসবে না। তাই মঞ্চে এশিয়া কাপের ট্রফিই ছিল না। গত বারের ট্রফি এখনও পাননি সূর্যেরা। হরমনপ্রীতেরাও হয়তো ট্রফি পাবেন না।
পুরস্কার অনুষ্ঠানের শুরুতে আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের মেডেল দেওয়া হয়। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর হাতে রানার্সের চেক তুলে দেন নকভি। তার পরেই সঞ্চালক পারভেজ় মাহরুফ জানিয়ে দেন, এখানেই অনুষ্ঠান শেষ। তার পরই দ্রুত মাঠ ছাড়েন নকভিও।
