
জল্পনা ছিল। বৃহস্পতিবার সেই জল্পনাই সত্যি করে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইকের পর এবার সেই একই পথে হাঁটলেন জনপ্রিয় টলি-তারকা। ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ৯-এ নামল। এমতাবস্থায় তৃণমূলের ভবিষ্যত যে অন্ধকার, তা বলাই বাহুল্য।
গত মাসের ৪ তারিখ ভোটের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে একের পর এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে চলেছে। এক সময়ের শাসক দল বর্তমানে চরম অস্তিত্ব সংকটে। রীতিমত দু-ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূল। এমতাবস্থায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের পরিষদীয় দল মমতা-অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে। সেই ব্লকে বিধায়কসংখ্যা এখন ৬৪ জন বলে দাবি। এবার রাজ্যসভাতেও সেই একই ধাঁচে তৈরি হচ্ছে নতুন তৃণমূল! সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
রাজ্যসভায় প্রথম ইস্তফাটি দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। পরে বুধবার ইস্তফা দেন সুস্মিতা দেব। এবার বৃহস্পতিবারে বৃহস্পতিবারে একযোগে সাংসদ পদ ছাড়লেন প্রকাশচিক বরাইক এবং কোয়েল মল্লিক। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহে আরও কয়েকজন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন।
প্রসঙ্গত, বাংলায় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে রঞ্জিত মল্লিকের ভবানীপুরের বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিনেতার হাতে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নামের একটি তথ্যসমৃদ্ধ বাক্স তুলে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরেই মল্লিক বাড়ির সঙ্গে রাজনীতির সূত্রপাত যে হতে চলেছে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তার ঠিক কয়েকদিনের মধ্য়েই রাজ্য়সভার সাংসদ হিসাবে কোয়েলের নাম ঘোষণা করা হয় তৃণনূলের তরফে। কিন্তু বছর না ঘুরতেই দল থেকে ইস্তফা দিতে হল অভিনেত্রীকে।
