
রাজ্য সরকারের অনুদান নীতি
গত কয়েক বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজ্যের নথিভুক্ত ক্লাব ও দুর্গাপূজা কমিটিগুলোকে আর্থিক অনুদান দিয়ে আসছে।
- শুরু ও বৃদ্ধি: প্রথম দিকে এই অনুদানের পরিমাণ কম থাকলেও, প্রতি বছর তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এটি ক্লাব প্রতি ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০,০০০ টাকা, ৭০,০০০ টাকা এবং পরবর্তীতে ৮৫,০০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছিল।
- অন্যান্য ছাড়: আর্থিক অনুদান ছাড়াও বিদ্যুৎ বিলে বড় অঙ্কের ছাড় (যেমন ৭০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল মকুব) এবং দমকল বা পৌরসভার বিভিন্ন লাইসেন্স ফি মকুবের মতো সুবিধাও পূজা কমিটিগুলোকে দেওয়া হয়।
২. সরকারের উদ্দেশ্য ও যুক্তি
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অনুদানের সমর্থনে বেশ কিছু যুক্তি দেওয়া হয়:
- সংস্কৃতি ও পর্যটন: দুর্গাপূজা এখন ইউনেস্কো (UNESCO) দ্বারা ‘আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ (Intangible Cultural Heritage)-এর স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকারের মতে, এই অনুদান উৎসবের মান বজায় রাখতে এবং পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করে।
- ছোট ক্লাবের পাশে দাঁড়ানো: কলকাতার বড় বড় বাজেট পূজার পাশাপাশি গ্রাম ও মফস্বলের ছোট ছোট ক্লাবগুলো যাতে আর্থিক সংকটের কারণে পূজা বন্ধ না করে দেয়, তার জন্য এই সাহায্য দেওয়া হয়।
৩. বিরোধী দল ও শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান
ছবিতে থাকা শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো (বিজেপি, বামপন্থী ও কংগ্রেস) সরকারের এই অনুদান নীতির তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। তাঁদের মূল আপত্তির জায়গাগুলো হলো:
- আর্থিক সংকট ও ডিএ (DA) বিতর্ক: বিরোধীদের দাবি, যেখানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) পাচ্ছেন না, রাজ্যের ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা রয়েছে এবং যুবকেরা চাকরির দাবিতে আন্দোলন করছেন, সেখানে এভাবে কোটি কোটি টাকা ক্লাবগুলোকে ‘খয়রাতি’ করা অনুচিত।
- ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি: বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, দুর্গাপূজার অনুদান আসলে ক্লাবগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করার একটি রাজনৈতিক কৌশল।
- আইনি লড়াই: এই অনুদান বন্ধ করার দাবিতে অতীতে একাধিকবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও (PIL) দায়ের করা হয়েছে।
