ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য করায়, নেতাজিনগর থানায় মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে অভিযোগ।

নির্বাচনী প্রচারের আবহে ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট প্রচারের সময় তাঁর করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে নেতাজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্য উস্কানিমূলক এবং তা সমাজে বিভাজন ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি একটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগকারীর দাবি, বক্তব্যের নির্দিষ্ট অংশ বিশেষ সম্প্রদায় ও ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং তা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী হতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নেতাজিনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য অত্যন্ত সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। কারণ তাঁদের বক্তব্য সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে। অভিযোগকারীর মতে, সংশ্লিষ্ট মন্তব্য ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতির উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নজরদারি আরও কড়া হওয়া উচিত। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারের নামে এমন মন্তব্য করা হচ্ছে যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের নেতাদের মতে, বিরোধীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এটি। তাঁদের দাবি, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে চাপে ফেলতেই এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও দলীয়ভাবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া কোনও বক্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে দেখা হয় বক্তব্যটি আদৌ আইন ভঙ্গ করেছে কি না। বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, ভাষা, উদ্দেশ্য এবং তার সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করেই প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত। নির্বাচনের আগে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক সংঘাত প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এই ঘটনাও রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। শাসক ও বিরোধী সমর্থকদের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একপক্ষ অভিযোগের পক্ষে সওয়াল করছে, অন্যপক্ষ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলেই দাবি করছে।
বর্তমানে সকলের নজর রয়েছে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে কি না, তা সময়ই বলবে।

  • rgsamachar

    Related Posts

    দুর্গা পূজা নিয়ে মুক্ষ মন্ত্রীর বড় ঘোষণা

    রাজ্য সরকারের অনুদান নীতিগত কয়েক বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজ্যের নথিভুক্ত ক্লাব ও দুর্গাপূজা কমিটিগুলোকে আর্থিক অনুদান দিয়ে আসছে। ২. সরকারের উদ্দেশ্য ও যুক্তি রাজ্য…

    Read more

    রাজ্যসভা থেকে ইস্তিফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

    জল্পনা ছিল। বৃহস্পতিবার সেই জল্পনাই সত্যি করে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইকের পর এবার সেই একই পথে হাঁটলেন জনপ্রিয় টলি-তারকা। ফলে…

    Read more

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Exclusive

    ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য করায়, নেতাজিনগর থানায় মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে অভিযোগ।

    দুর্গা পূজা নিয়ে মুক্ষ মন্ত্রীর বড় ঘোষণা

    রাজ্যসভা থেকে ইস্তিফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

    সোনা পাপ্পু মামলা এবং শ্রেয়া পাণ্ডের যোগসূত্র: বিস্তারিত প্রতিবেদন

    পুলিশের জালে কুখ্যাত অপরাধী ‘পুষ্পা’ ওরফে জাহাঙ্গীর খান

    মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে আগুন: রবিবার থেকে একলাফে বাড়ল LPG সিলিন্ডারের দাম!